SPKShahidParibarKushtia

কুষ্টিয়া · ২৮ আগস্ট ১৯৭১

থানাপাড়ার যে রাতভুলে যাওয়া যায় না

একটি শহর, কয়েকটি পরিবার এবং ইতিহাসের এক নির্মম রাত। এই পাতা কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া গণহত্যায় শহীদদের স্মৃতি, স্বজনদের কণ্ঠ ও সত্যকে বাঁচিয়ে রাখার একটি ছোট প্রয়াস।

স্মরণের দিন২৮ আগস্ট
স্থানথানাপাড়া, কুষ্টিয়া

ঘটনার স্মৃতি

এক রাতে থেমে গিয়েছিল বহু জীবন

১৯৭১ সালের আগস্টে বন্যায় কুষ্টিয়া শহরের বড় অংশ পানিতে ডুবে ছিল। ঘরবাড়ি দেখাশোনা ও পরিবারের খোঁজে কিছু মানুষ শহরে ফিরেছিলেন। ২৮ আগস্ট রাতে স্থানীয় সহযোগীদের সহায়তায় তাঁদের কয়েকজনকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে ছয় রাস্তার মোড়ে জড়ো করা হয়।

পরে তাঁদের থানাপাড়ার জিকে ঘাটের দিকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। পরিচিত শহীদদের মধ্যে ছিলেন ব্যবসায়ী আবদুস সবুর, শিক্ষক কামাল উদ্দিন শেখ, কিশোর নূরুল ইসলাম শুকু, ওবায়েদ রহিম বুলু ও আক্কেল মোল্লা। আরও কয়েকজন শহীদের পরিচয় আজও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি।

ইতিহাস শুধু তারিখ নয়—এটি হারিয়ে যাওয়া মানুষের নাম, পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা এবং সত্য বলার দায়।

কণ্ঠে কণ্ঠে ইতিহাস

স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মুখে থানাপাড়া

এই প্রামাণ্যচিত্রে শহীদ পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, প্রত্যক্ষদর্শী, লেখক ও গবেষকেরা সেই রাতের স্মৃতি, হারানোর বেদনা এবং স্মৃতি সংরক্ষণের প্রয়োজনের কথা বলেছেন।

কুষ্টিয়া একাত্তর: থানাপাড়া ও অন্যান্য জেনোসাইড বইয়ের প্রচ্ছদ

ইতিহাসের পাতায় থানাপাড়া

স্মৃতির সঙ্গে গবেষণার সংযোগ

‘কুষ্টিয়া একাত্তর: থানাপাড়া ও অন্যান্য জেনোসাইড’ বইটি কুষ্টিয়ার মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যার স্মৃতি ও অনুসন্ধানকে এক জায়গায় এনেছে। পরিকল্পনা ও সম্পাদনায় গওহার নঈম ওয়ারা—এই কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্থানীয় ইতিহাস বুঝতে সাহায্য করে।

পরিকল্পনা ও সম্পাদনা · গওহার নঈম ওয়ারা

যাঁদের স্মরণে

নামগুলো যেন হারিয়ে না যায়

01আবদুস সবুর
02কামাল উদ্দিন শেখ
03নূরুল ইসলাম শুকু
04ওবায়েদ রহিম বুলু
05আক্কেল মোল্লা
06অজ্ঞাতনামা শহীদেরা

আরও জানুন

স্মৃতি, ছবি ও নতুন তথ্যের সংগ্রহ

থানাপাড়া এবং কুষ্টিয়ার ১৯৭১-এর ইতিহাস নিয়ে আরও ছবি, পারিবারিক স্মৃতি, দলিল ও আলোচনা জানতে ফেসবুক কমিউনিটিতে যোগ দিন।

যাঁরা আর ফিরে আসেননি, তাঁদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা। তাঁদের পরিবারের অশ্রু, অপেক্ষা ও সাহস যেন কখনও বিস্মৃত না হয়। সত্য বলা, নামগুলো স্মরণ রাখা এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস পৌঁছে দেওয়াই হোক আমাদের নীরব অঙ্গীকার।

শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা